করোনাভাইরাসের প্রভাবে অভিবাসী শ্রমিকরা ভুগছেন ক্ষুধা, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তায়
2020.04.15
জাকার্তা, কুয়ালালামপুর, ব্যাংকক, ঢাকা ও ম্যানিলা

আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২০। ইস্টার্ন সময় দুপুর ০১.০০
করোনাভাইরাস মহামারির বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশ লক ডাউন বা অবরোধ ঘোষণা করার কারণে বেকারত্ব, ক্ষুধা, এমনকি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ভুগছেন এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকরা।
নিজ নিজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিকের এই দুর্দশা ভাবিয়ে তুলেছে ইন্দোনিশয়া ও বাংলাদেশসহ বিদেশে শ্রমিক পাঠানো দেশগুলোকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সাথে সম্প্রতি এক অনলাইন বৈঠকে ঐ অঞ্চলের করোনাভাইরাস মহামারি আক্রান্ত অভিবাসীদের দুর্দশা নিয়ে কথা বলেছেন ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইদোদো।
তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ সাউথ-ইস্ট এশিয়ান নেশনস বা আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ মঙ্গলবার এক বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের দেশের ঝুকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধানে সম্মত হলেও অভিবাসীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেননি।
একইভাবে আসিয়ান নেতৃবৃন্দ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনের সঙ্গে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ বিষয়ক বৈঠকের পর আসিয়ান যে বিবৃতি দিয়েছে তাতেও ঠাঁই পায়নি অভিবাসী প্রসঙ্গ।
“অভিভাসীদের রক্ষায় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর যেভাবে পরস্পরকে সহযোগিতা করছে, আমি তার সাধুবাদ জানাই,” বৈঠকে বলেন জোকো।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি উল্লেখ করেন, আসিয়ান দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ অভিবাসীর যাতায়াত আছে। এই অভিবাসীদের তিনি “আমাদের সম্প্রদায় বিনির্মাণ প্রক্রিয়ার” হৃৎপিণ্ড বলে অভিহিত করেন।
“কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে আসিয়ানের দেশগুলো নিজস্ব পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর সঙ্গে আমাদের অবশ্যই আমাদের নাগরিকদের- বিশেষ করে যারা আসিয়ানের অন্যান্য দেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন তাঁদের সহায়তা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না,” মঙ্গলবার জাকার্তা পোস্টে প্রকাশিত এক উপসম্পাদকীয়তে লিখেছেন রেতনো।
“সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় এক কোটিরও বেশি ইন্দোনেশিয়ান কাজ করেন। আমাদের অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমি ঐ দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছি,” লিখেছেন তিনি।
পুরো দক্ষিণপূর্ব এশিয়া জুড়ে অভিবাসীরা করোনাভাইরাস সামাল দিতে কঠিন সময় পার করছেন।
থাইল্যান্ডে একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করতেন কম্বোডিয়ার বাটম্বাং থেকে আসা নিচ ওয়ান। থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে তাঁর একটি ছোট মুদি দোকান আছে।
“কোভিডের এই সময়ে দোকানে সামান্য যা বেচাবিক্রি হয় তা দিয়ে চলে না। অথচ আমাকে এখানেই থাকতে হচ্ছে। আশা ছিল সংক্রানের (থাই নববর্ষ) সময় দেশে যাব, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ,” বলেছেন নিচ।
বাংলাদেশি আব্দুস সালাম (৪৭) মালয়েশিয়ায় ৫ বছর থেকে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি একটি হার্ডওয়ারের দোকানে দৈনিক ২৫ রিঙ্গিত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮৮ টাকা) মজুরিতে কাজ পেয়েছিলেন। এর এক সপ্তাহ পর চলাচল নিয়ন্ত্রণ আদেশ জারির মাধ্যমে দেশটিতে জরুরি সেবা ছাড়া সকল শিল্প কারাখানার ওপর আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়।
লকডাউন ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় তিনি ভয়ে আছেন, তাঁর হাতে খাবার কেনার টাকা থাকবে না। একই বাড়িতে আটকে থাকা আরও ১৫ জনের মতো তিনিও দিনে এক বেলা খেয়ে যতটা কম খরচে বাঁচা যায় সেই চেষ্টা করছেন।
“লকডাউন শুরু হওয়ার আগে বাড়িতে টাকা পাঠানোর জন্য বসের কাছ থেকে ৫০০ রিঙ্গিত অগ্রিম নিয়েছিলাম। অল্প কিছু হাতে রেখে প্রায় সবটাই বাংলাদেশে পরিবারের কাছে পাঠিয়েছিলাম। এখন দিনে ৩ থেকে ৫ রিঙ্গিত দিয়ে খাবার কিনি, অন্যদেরও একই অবস্থা,” বেনারকে বলেন তিনি।
মালয়েশিয়া ভিত্তিক এনজিও ‘আনক কামি’র প্রতিষ্ঠাতা সিতি নুরসুরাইয়া আলী, জাকার্তায় অবস্থিত মালয়েশিয়ান দূতাবাসে আটকে পড়া অভিবাসীদের সহয়াতার জন্য কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশিদের জন্যও এই কাজ করতে আগ্রহী।
“আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা সেভাবে সহযোগিতা করেননি। তাঁরা আমাদের কাছে ডাটাবেস চেয়েছিলেন, কিন্তু সহযোগিতার জন্য আমাদের যথাযথ উপাত্ত দেননি।”
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চল মিন্দানাও এলাকায় অবস্থানরত ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা তাঁদের দেশের সরকারের কাছে খাদ্য সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
“দক্ষিণ ফিলিপাইনে তিন হাজার ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন দাবাও নগরীতে থাকা ইন্দোনেশিয়ার কনসাল জেনারেল।
দাভাওতে কনস্যুলেট জেনারেলের মসজিদ দক্ষিণ ফিলিপাইনের নয়টি অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ানদের নগদ অর্থ দিয়েছে বলে জানান প্রবাসী ইন্দোনেশিয়ানদের রক্ষায় নিয়োজিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক জুধা নুগ্রাহা।
এনজিও উদ্যোগ
মালয়েশিয়ার মানবাধিকার কমিশন (সুহাকাম) কর্মকর্তারা বলেছেন যে, চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে বিপদগ্রস্ত শরণার্থী এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তার জন্য তাঁরা সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।
এব্যাপারে সুহাকাম কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কেউ বাদ পড়বে না বলে সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন গত ২৭ মার্চ “জনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্যাকেজ” নামে একটি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। প্যাকেজের আওতায় জনকল্যাণের জন্য ২৯.৬ বিলিয়ন ডলার, ব্যবসায়িক সহায়তার জন্য ২৩.১ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনীতির উন্নয়নে ৪৬০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। পরবর্তিতে ক্ষুদ্র বাণিজ্যের সহায়তায় আরও ২.৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী কম্বোডিয়া, লাওস ও মিয়ানমারে প্রায় ৩০ লাখ অভিবাসী থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও এর লাগোয়া এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন কারখানা, নির্মাণ ক্ষেত্র, ডিপার্টমেন্ট স্টোর এবং মৎস্যচাষ প্রকল্পে কাজ করেন।
ব্যাংককের নগর প্রশাসন করোনাভাইরাসের কারণে গত ২২ মার্চ জরুরি কর্মকাণ্ডের বাইরে সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকেই এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ও-চা জরুরি অবস্থা এবং রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করায় আরও বেশি পরিমাণ মানুষ কাজ হারিয়েছেন।
মানবাধিকার কর্মীরা বেনারকে জানান, থাই সরকার সম্প্রতি ৫৮ বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও অভিবাসী শ্রমিকদের এর আওতাভুক্ত করেনি। জরুরি আইনের আওতায় বহু অভিবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর ক্ষতিপুরণ পাননি – যা তাঁদের সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
“কত সংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক দেশ ছেড়েছেন এবং কত সংখ্যক এখনো রয়ে গেছেন তা আমরা সঠিকভাবে জানি না। সরকারের কাছে এই দুয়ের কোনো তথ্য নেই, বরং তারাও এব্যাপারে তথ্য চাচ্ছে,” বেনারকে বলেন লেবার রাইটস প্রমোশন নেটওয়ার্কের (এলপিএন) পরিচালক পতিমা তুঙ্গপোচায়াকুল।
এ ব্যাপারে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মকর্তাদের মন্তব্য জানতে চাইলে তাঁরা কোনো জবাব দেননি।
ইন্দোনেশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন মাইগ্রান্ট কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহু সুসিলো রাষ্ট্রপতি জোকোর দেখানো পথে অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
“অভিবাসীরা যেন এই সুবিধা পান ইন্দোনেশিয়ার সরকারকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করতে হবে,” বেনারকে বলেন ওয়াহু।
ফিরে আসাদের সহায়তা
এনজিও কর্মকর্তারা বলেছেন, যে সব নাগরিক বিদেশে চাকরি হারিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরেছেন তাঁদেরও একই ধরনের সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার মাইগ্রান্ট ওয়ার্কার্স প্রটেকশন এজেন্সির (বিপি২এমআই) দেয়া তথ্য অনুযায়ী মার্চের শেষ দিকে প্রায় ৩৩ হাজার শ্রমিক মালয়েশিয়া, হংকং এবং তাইওয়ান থেকে দেশে ফিরে এসেছেন।
বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য নয়। তবে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো নাগরিকদের নিয়ে ভুগছে দেশটি। যারা দেশে ফিরছেন তাঁদের অনেকেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিদেশে কারাবন্দী ছিলেন।
রাষ্ট্র পরিচালিত বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বুধবার রাতে সৌদি আরব থেকে ৩৬৬ জন যাত্রী নিয়ে একটি বিশেষ চার্টার্ড বিমান দেশে ফিরেছে। ফেরত আসাদের বেশিরভাগই প্রবাসী শ্রমিক। এছাড়া কিছু রয়েছেন সেখানে আটকে পড়া যাত্রী।
এ প্রসঙ্গে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বেনারকে বলেন, “এসব বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই বিমানে তোলা হয়েছে। কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়েনি।”
তবে সৌদি আরবে ১৫ জন বাংলাদেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে “সংযুক্ত আবর আমিরাতও ২০০ জনের বেশি বাংলাদেশির তালিকা পাঠিয়েছে। তারা তাদের ফেরত পাঠাতে চায়। আমরা পরীক্ষা করে দেখছি তারা প্রকৃতই বাংলাদেশি কি না,” বেনার বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।
প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান সৈয়দ সাইফুল হক বেনারকে বলেন, “করোনাভাইরাস সংকট শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া এবং ইতালি থেকে কমপক্ষে আড়াই লাখ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন অথবা তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।”
“করোনাভাইরাস শ্রমিক গ্রহণকারী দেশগুলোতে সংকট সৃষ্টি করেছে সত্য। কিন্তু বিপদের সময় তাঁদের ফেরত পাঠানো অথবা অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়াকে আমি আনফেয়ার (অন্যায়) বলব। কারণ এই মানুষগুলো এতদিন তাদের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন,” বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন।
প্রবাসী শ্রমিকরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অবদান রেখেছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ সালে তারা ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বেনারকে বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে যেসকল বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে আসবেন বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্র হাত খরচের জন্য তাঁদেরকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো বাংলাদেশি কর্মী মারা গেলে তাঁর পরিবার তিন লাখ টাকা পাবে।”
“যেসকল কর্মী বাংলাদেশে ফিরে আসবেন তাঁরা প্রত্যেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এই টাকা দিয়ে তাঁরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে কৃষি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে পারবেন,” বেনারকে বলেন ইমরান আহমদ।
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন জাকার্তা থেকে রোন্না নির্মলা, কুয়ালালামপুর থেকে নিশা ডেভিড, ব্যাংকক থেকে ননতারাত ফায়চারয়েন, ম্যানিলা থেকে জেসন গুতেরেজ এবং ঢাকা থেকে কামরান রেজা চৌধুরী ও জেসমিন পাপড়ি।